top of page
Search

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ডিজাইনঃ ক্রিটিকাল কেয়ার ইউনিট ( CCU) এবং ইনটেন্সিভ কেয়ার ইউনিট ( ICU)

Writer: studio dhaka architectsstudio dhaka architects


ডাক্তারদের মতো স্থপতিদেরও স্পেশালিটির কিছু ক্ষেত্র আছে। কেউ ইন্টেরিয়র ডিজাইন স্পেশালিস্ট, কেউ এডুকেশনাল ইন্সটিটিউশন ডিজাইন স্পেশালিস্ট, কেউ আবার ল্যান্ডস্কেইপ স্পেশালিস্ট। তেমন একটি ধারা -হেলথ কেয়ার ডিজাইন স্পেশালিস্ট। একজন স্থপতি চাইলে এ বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রীও নিতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সে এই সাবজেক্ট টি পড়ানো হয়। আমার এ ডিগ্রীটি নেই ।তবে সৌভাগ্য হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে এ বিষয়ে দক্ষ একটি ফার্ম স্মিথগ্রুপে কয়েকমাস কাজ করার। পরবর্তীতে দেশে কয়েকটি হাসপাতাল ডিজাইনে প্রজেক্ট আর্কিটেক্ট হিসেবে কর্মরত ছিলাম। এর মধ্যে এপোলো, ল্যাবএইড এবং আজগর আলী হাসপাতালের ভবিষ্যৎ স্থাপনাগুলোতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমি কিছু গুরুত্বপুর্ণ বিষয় শেয়ার করব ।


CCU এবং ICU এর স্পেইস প্রোগ্রাম মোটামুটি একি হলেও এর ব্যবহার ভিন্ন। CCU মুলত কার্ডিয়াক ডিসঅর্ডার পেশেন্টদের ডিল করে যাতে আর্টিফিশিয়াল ভেন্টিলেটর মেন্ডেটরি নয়। অন্যদিকে ICU তে প্রতিটি বেডের সাথে অবশ্যই ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা আইডিয়ালি থাকা লাগবে এবং এখানে সব ধরনের ক্রিটিকাল পেশেন্ট থাকতে পারে।আমাদের দেশে স্পেশালাইজড হসপিটাল ছাড়া CCU তেমন একটা চোখে পড়ে না। যেহেতু করোনা ফুসফুসজনিত ছোয়াছে রোগ, তাই ICU with isolation অথবা পুরো ICU ইউনিটটি আইসোলেশন হিসেবে ট্রিট করতে হবে। পারলে পুরো হাসপাতালটি করোনা পেশেন্টটের জন্য ডেডিকেটেড করা ছাড়া এই মহামারী কমানো সম্ভব না।

একটি ICU ইউনিট আইডিয়ালি সর্বোচ্চ 12 বেডের হতে পারে। এই ইউনিটের মধ্যে কমপক্ষে অবশ্যই দুটি বেড আইসোলেশন বেড হতে হবে। এই আইসোলেশন বেড আবার বিভিন্ন টাইপের হয় ।তবে মোদ্দা কথা, আইসোলেশন অবশ্যই আলাদা একটি রুম যার এয়ার ফ্লো সিস্টেম (পজিটিভ, নেগেটিভ এয়ার প্রেশার) হবে আলাদা , এবং এই রুমটি মোটামুটি স্বয়ংসম্পুর্ন রুম (টয়লেট ফ্যাসিলিটি সহ)। এই রুমে ঢুকতে গেলে আপনার প্রপার PPE পড়তে হবে এবং বের হওয়ার সময় সেই PPE ছেড়ে আসার ইনটারমিডিয়েট স্পেইস / চেঞ্জিং রুম থাকা লাগবে। একটি 12 বেডের ICU ইউনিটের জন্য নুন্যতম 1500 স্কয়ার ফিটের জায়গা প্রয়োজন। এর সাথে এডিশনাল ক্লীন ওয়ার্ক রুম, নরিশমেন্ট এরিয়া, ডিকটেশন রুম,নার্স স্টেশন, ক্লীন ইউটিলিটি রুম,সয়েল্ড ইউটিলিটি রুম , ইকুইপমেন্ট স্টোরেজ যেটি আলাদাভাবে সেন্ট্রাল স্টেরেলাইজড ইউনিটের সাথে কানেক্টেড থাকবে। সব মিলে একটি বারো বেডের পুর্নাংগ আইসিউ ইউনিটের জন্য আড়াই হাজার স্কয়ার ফিটের জায়গা প্রয়োজন এবং আলাদা এয়ার ভেন্টিলেশন সিস্টেম প্রয়োজন । এবং ICU ইউনিট টি OT (operation theatre) অথবা পোস্ট অপ এর যত কাছে থাকা যায় (ডিরেক্ট এক্সেস) তত ভালো। আবার এই ICU ইউনিট টি ইনপেশেন্ট ডিপার্টমেন্ট মানে (ওয়ার্ড, কেবিন) এর সাথে ডেডিকেটেড এক্সেস থাকাও জরুরী কিন্তু কোনভাবে যেন আউটপেশেন্ট ডিপার্টমেন্ট অথবা ডায়গনস্টিক ফ্যাসিলিটির সাথে সরাসরি কানেকটেড না থাকে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এই ICU ইউনিটের বাইরে কিছু শেয়ারড সাপোর্ট মানে অন্য ইউনিটের সাথে শেয়ার করা যায় এমন ব্যবস্থা রাখতে হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কনফারেন্স রুম, বিলিং রুম, ফ্যামিলি ওয়েটিং রুম, পাবলিক টয়লেট, লকার রুম এবং জায়গা থাকলে নামাজের জায়গা রাখা যেতে পারে কিন্তু অবশ্যই সেটা ICU ইউনিটের সাথে সেপারেট এবং দুই/ তিন স্তরের প্রটেকশন সিস্টেম থাকতে হবে। দুই তিন স্তরের প্রটেকশন সিস্টেমে আপনাকে ধাপে ধাপে ICU ইউনিটে প্রপার স্টেরেলাইজড হয়ে যেতে হয়।ওটির সাথে আইসিও সরাসরি যুক্ত করা না গেলে ডাক্তার, নার্সের জন্য আলাদা ওয়াশরুম , চেঞ্জিং রুম থাকতে হবে যা ঐ প্রটেকশন স্তরেরে সাথে এক্সেসেবল হয়।



এর বাইরেও হাসপাতালের টোটাল ডিজাইনের উপর ডিপেন্ড করে বিভিন্ন সাপোর্ট লাগতে পারে। ICU সম্পর্কে এত কিছু বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে আমরা যে ICU র সংখ্যা গুনে সন্তুষ্ট হচ্ছি তার কয়টিকে ICU ইউনিট বা বেড কিংবা আইসোলেশন বলা যাবে? আদৌ কি আছে ? থাকলে তো ডাক্তাররা এফেক্টেড হওয়ার কথা না। যে ICU ইউনিটের কথা আপনারা বলছেন তাতে যে ঢুকবে সেই তো অসুস্থ হয়ে যাবে। আমাদের দেশে আবার ICU তে দেখা করতে যাওয়া যায়, খাবার নিয়ে যাওয়া যায়, মোবাইল ব্যবহার করা যায়, ইফতার ,সেহেরী করা যায়। এমনকি এই আইসিওর ড্রেস পড়ে নিচে টং এর দোকানে চা বিড়ি খেতেও দেখা যায় ।

সরকারী হাসপাতালের কথা নাই বললাম , ব্যয়বহুল কয়টা হাসপাতাল ICU ইউনিটের ডিজাইন গাইডলাইন মেনে চলে?

হাসপাতাল থাকলেই হবে? হাসপাতালে প্রপার ICU থাকা লাগবে না? প্রপার ICU সিস্টেম না থাকলে সংক্রমনের সংখ্যা বেড়ে যাবে। তাই ভবিষ্যতের হাসপাতাল ব্যবসায়ীদের বলব- আপনার হাসপাতালে বেড সংখ্যা কম থাকুক ,কিন্তু সিস্টেম প্রপার থাকুক। বেডের সংখ্যা বেশি হলে হয়ত টাকা বেশি পাওয়া যায়, কিন্তু সামগ্রিকভাবে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এ অবস্থায় যেহেতু এত ভেন্টিলেটর নেই,প্রপার ICU ইউনিট নেই তাই আইসোলেশনের নিয়ম কানুনে মনযোগ দেওয়াটা জরুরি এবং ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ড বয়দের প্রপার পিপিই মেইনটেইন করা জরুরী। পুরো হাসপাতালকে করোনার জন্য ডেডিকেটেড করা অথবা বসুন্ধরা যে উদ্যোগ নিচ্ছে সেটাও এই মুহুর্তে কার্যকর ভুমিকা রাখবে বলে আমি মনে করি।

সকল ডাক্তার, নার্স ,ওয়ার্ড বয়, হসপিটাল এডমিনিস্ট্রেশনকে সম্মান জানাই কাজ করে যাওয়ার জন্য। আপনাদের পরিবারের খোজ খবর নেয়া রাষ্ট্রের তথা আমাদের দায়ীত্ব।


 
 
 

コメント


SDA LOGO-02.png

© 2020 by STUDIO DHAKA ARCHITECTS

SDA LOGO-02.png
  • Instagram - Black Circle
  • LinkedIn - Black Circle
  • Twitter Square
  • facebook-square
bottom of page